শিক্ষকতার আড়ালে গড়ে উঠেছে অনলাইন ক্যাসিনো সাম্রাজ্য, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা স্থানীয়দের
শিক্ষকতার আড়ালে গড়ে উঠেছে অনলাইন ক্যাসিনো সাম্রাজ্য, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা স্থানীয়দের
স্টাফ রিপোর্টারঃ
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় অনলাইন ক্যাসিনো ও জুয়ার বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয়দের মাঝে। অভিযোগ উঠেছে, সাংবাদিকতা ও শিক্ষকতার আড়ালে থেকে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনো ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন এটিএম সালাম, তার ভাগিনা সুমন আহমেদ ও নয়ন মনি সরকার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ক্যাসিনো ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালিত হলেও নবীগঞ্জে অভিযুক্তরা এখনো প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, এটিএম সালাম সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন জুয়ার নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছেন।
অভিযোগে আরও জানা যায়, নিজ অফিস ও বাসা থেকেই মামা-ভাগিনা মিলে ওয়ানএক্স, মেলবেট, লাইনবেটসহ বিভিন্ন অনলাইন বেটিং সাইটের এজেন্ট পরিচালনা করছেন। তাদের সঙ্গে নয়ন মনি সরকারের সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে। বলা হচ্ছে, মাধবপুর ও ঢাকা থেকে বিকাশ ও নগদ এজেন্ট সিম সংগ্রহ করে এসব অনলাইন জুয়ার লেনদেন পরিচালনা করা হয়। এর মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে বিপুল পরিমাণ অর্থ।
অভিযোগ রয়েছে, নয়ন মনি সরকার ব্যবহৃত ০১৭৫৪২১৩২৬৪ নম্বরের মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০ লক্ষ টাকার বেশি লেনদেন করা হতো। স্থানীয়দের দাবি, এই নম্বর ব্যবহার করে অনলাইন জুয়ার টাকা আদান-প্রদান এবং বিভিন্ন এজেন্ট নিয়ন্ত্রণ করা হতো।
স্থানীয়দের দাবি, নবীগঞ্জ সদর ছাড়াও উপজেলার ইমামবাড়ি বাজার, আউশকান্দি, টুকের বাজার, কাজিরবাজার ও পানিউমদা বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় এই অনলাইন জুয়ার বিস্তার ঘটেছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যুব সমাজ। স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরাও অনলাইন জুয়ার প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, উঠতি বয়সী তরুণদের মোবাইলে বিভিন্ন বেটিং অ্যাপস ইনস্টল করে দিয়ে তাদের জুয়ার জগতে প্রবেশ করানো হচ্ছে। পরে বিকাশের মাধ্যমে লোড ও কয়েন লেনদেনের ব্যবসা করে একটি চক্র লাখ লাখ টাকা আয় করছে।
এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, এসব বিষয়ে কেউ মুখ খুলতে গেলে মামলা কিংবা পুলিশের ভয় দেখানো হয়। ফলে ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, রাজনৈতিক ও সাংবাদিকতার আড়ালে থেকে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট এই অনলাইন ক্যাসিনো ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এবং অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে নবীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান,
“অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনো সংক্রান্ত অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সুনির্দিষ্ট তথ্য ও প্রমাণ পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। যুব সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে প্রশাসন সবসময় কঠোর অবস্থানে রয়েছে।”
নিউজটি আপডেট করেছেন : lifestyledesign847@gmail.com
কমেন্ট বক্স